যুদ্ধ ও খরার প্রভাব

এশিয়ায় চালের বাজারে মিশ্র প্রবণতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে এশিয়ার চালের বাজারে একধরনের মিশ্র প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ভারতের বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলেও ভিয়েতনামে সরবরাহ সংকটে চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে খরা এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ধান উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে এ সপ্তাহে রফতানি মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটিতে চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা সামান্য বাড়লেও দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা সিদ্ধ চাল বর্তমানে প্রতি টন ৩৪৪-৩৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ৫ শতাংশ ভাঙা সাদা চালের দামও প্রতি টন ৩৩৮-৩৪৪ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদেশী ক্রেতারা চাল কিনতে আগ্রহী হলেও উচ্চ জাহাজ ভাড়ার কারণে তারা কিছুটা চিন্তাভাবনা করে চাল কিনছেন। পরিবহন খরচ কমলে রফতানির গতি আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দেশটিতে শীত-বসন্তকালীন ফসল কাটার মৌসুম শেষ পর্যায়ে। ফলে বাজারে চালের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। ৫ শতাংশ ভাঙা ভিয়েতনামি চালের দাম প্রতি টন ৩৭৭-৩৮০ ডলারে পৌঁছেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ দাম ৪৪০ ডলার পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ সংকটে আগামীতে দাম আরো বাড়তে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ভিয়েতনামের চাল রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে অনেক দেশ এখন জরুরি মজুদ বাড়াতে বাড়তি চাল কিনছে।

থাইল্যান্ডের বাজারে চালের দাম বর্তমানে প্রতি টন ৪১০-৪১৫ ডলারের মধ্যে রয়েছে। তবে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সার ও জাহাজ ভাড়া বাড়ার ফলে থাই চালের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম আগে থেকেই চড়া। এর ওপর নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে বোরো মৌসুমের সেচকাজের জন্য কৃষকদের প্রচুর ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু সংকটের কারণে অনেক জায়গায় পানি সেচ ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে চালের উচ্চমূল্য, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে আরো চাপের মুখে ফেলতে পারে।

আরও